আল্লামা আবদুল ওয়াহ্হাব শা’রানী র.-এর বই
(1)
লেখক পরিচিতি — আল্লামা আবদুল ওয়াহ্হাব শা’রানী র.
আল্লামা আবদুল ওয়াহ্হাব শা’রানী (র.) ছিলেন দশম হিজরি শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামি চিন্তাবিদ, প্রখ্যাত শাফিয়ি ফকিহ এবং আধ্যাত্মিক সুফি সাধক। শরিয়ত (ইসলামি আইন) এবং তরিকতের (আধ্যাত্মিকতা) মধ্যে অপূর্ব সমন্বয় সাধনে তাঁর অবদান ইসলামি ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে আছে। জন্ম ও বংশপরিচয় তাঁর পুরো নাম আবদুল ওয়াহ্হাব ইবনে আহমাদ আল-শা’রানী। তিনি ৮৯৮ হিজরির (১৪৯৩ খ্রিষ্টাব্দ) ২৭ রমজান মিসরের কালয়ুবিয়া প্রদেশের অন্তর্গত কালক্বাশান্দা নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বংশলতিকা হযরত আলী (রা.) এবং হযরত ফাতিমা (রা.)-এর মাধ্যমে নবী করিম (সা.)-এর সাথে মিলিত হয়েছে। শৈশবেই তিনি পৈতৃক নিবাস শা’রাত নামক গ্রামে চলে আসেন, যেখান থেকে তাঁর নামের শেষে ‘শা’রানী’ উপাধি যুক্ত হয়। শিক্ষা ও সাধনা তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন এবং মাত্র আট বছর বয়সেই পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি কায়রোতে চলে যান এবং স্বনামধন্য আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত আলেমদের সান্নিধ্যে তাফসির, হাদিস, ফিকহ, উসূল, আরবি ব্যাকরণ এবং তাসাউফ শাস্ত্রে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ুতী (র.)-এর ছাত্র আল্লামা জাকারিয়া আল-আনসারী (র.) অন্যতম। কর্মজীবন ও সংস্কারমূলক অবদান আল্লামা শা’রানী (র.) তৎকালীন সমাজের নৈতিক অবক্ষয় এবং ধর্মীয় বিভেদ রোধে আজীবন কাজ করে গেছেন। তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ইসলামি আইনের বিভিন্ন মাজহাবের (হানাফি, শাফিয়ি, মালিকি ও হাম্বলি) মধ্যকার মতপার্থক্যগুলোকে সাংঘর্ষিক মনে না করে, সেগুলোকে একটি সমন্বিত ও রহমতের দৃষ্টিতে দেখা। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, শরিয়তের প্রতিটি বিধানের পেছনেই গভীর হিকমত বা প্রজ্ঞা লুকিয়ে আছে। একই সাথে তিনি সুফিবাদকে শরিয়তের গণ্ডির ভেতরে এনে বিদআত ও কুসংস্কার থেকে মুক্ত করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। উল্লেখযোগ্য রচনাবলি তিনি প্রায় তিন শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। এর মধ্যে কয়েকটি হলো: আল-মীযান আল-কুবরা: এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি। এই গ্রন্থে তিনি চার মাজহাবের ফিকহি মাসয়ালাগুলোর তুলনামূলক আলোচনা করেছেন এবং দেখিয়েছেন কীভাবে সবগুলো মতই কোরআন ও সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আত-তাবাকাতুল কুবরা (লওয়াকিহুল আনওয়ার ফি তাবাকাতিল আখয়ার): এতে প্রখ্যাত সুফি সাধক ও আউলিয়াদের জীবনী এবং তাঁদের আধ্যাত্মিক উপদেশ সংকলিত হয়েছে। লাওয়াকিহুল আনওয়ার আল-কুদসিয়্যাহ: আত্মশুদ্ধি এবং সুফিবাদের মৌলিক নিয়ম-কানুন নিয়ে রচিত। আল-ইয়াকিত ওয়াল জাওয়াহির: ইসলামি আকিদা এবং তাসাউফের ওপর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বই। ইন্তেকাল এই মহান সাধক ও যুগশ্রেষ্ঠ আলেম ৯৭৩ হিজরির (১৫৬৫ খ্রিষ্টাব্দ) জুমাদিউল উলা মাসে মিসরের কায়রোতে ইন্তেকাল করেন। কায়রোতেই তাঁকে সমাহিত করা হয় এবং তাঁর মাজার সংলগ্ন একটি বড় মসজিদ আজও তাঁর স্মৃতি বহন করে চলেছে।
